1 / 220% OFF
Cash on delivery available
নভেম্বরের শেষের দিকে একদিন আকাশে মেঘ জমলো। সকাল থেকে দুয়েক ফোঁটা বৃষ্টিও হচ্ছিল। ইরা স্কুলে যাবার সময় ছাতা নিলো না। এখন ঝুম বৃষ্টি হবার কোন সম্ভাবনা নেই। সারাদিন আকাশ মেঘের চাদরে ঢাকাই থাকল। ইরার ক্লাশ ছিল এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সাথে। ওদের মডেল টেস্টের প্রশ্ন দিয়ে ইরা ক্লাশের বাইরে এসে দাঁড়ালো। মেঘে ঢাকা আকাশটা দেখতে বেশ লাগছে। মনে হচ্ছে বর্ষার মাঝামাঝি দুপুর। দূরের আকাশ কাছে নেমে এসেছে। ইরা আজ সাদা জমিনের উপর নীল ফুলের ছাপা শাড়ি পড়েছে। ইরা দেখলো স্কুলের সামনের রাস্তা দিয়ে কালো পাজেরো যাচ্ছে। বুঝতে পারল তানভীর সাহেব এসেছেন। আজকের আবহাওয়াটা কিন্তু অসম্ভব সুন্দর। ঢাকার বৃষ্টিও সুন্দর, কিন্তু রাস্তায় পানি জমে জমে বৃষ্টির রোমান্টিসিজমটা নষ্ট হয়ে যায়। আকাশে মেঘ ডাকছে গুরু গুরু শব্দে। চারপাশটা অন্ধকার হয়ে আছে। দূরের ধানখেতে যতদূর চোখ যায় মেঘে মেঘে ছেয়ে আছে। তিন তলার বারান্দায় বসে ইরার মনে হলো ও কোন মেঘের দেশে এসে পড়েছে। স্কুলের গেটে ঢুকতেই একটা গোলাপি কাঠগোলাপ এর গাছ। গাছটা ভিজে গিয়েছে বৃষ্টিতে। ক্লাশ শেষ করে ইরা বের হলো। মোবাইলটা ব্যাগের মধ্যে জিপলক ব্যাগে ভরে নিলো। পানি ঢুকতে পারবে না। স্কুলগেটের বাইরে এসে দেখলো একটা কাঠগোলাপের বড় ডাল ভেঙে পড়েছে। ইরা ফুলের ডাল ভেঙে নিলো অনেক গুলো। বাজারের রাস্তা পেরিয়ে বাড়ির দিকে যে রাস্তা গিয়েছে সেখানে যেতেই জোরে বৃষ্টি শুরু হলো। সাথে দমকা বাতাস। যেন ঝড় শুরু হলো। ইরা হাটতে পারছিল না বাতাসে। প্রকৃতির ভয়ংকর সৌন্দর্য রেখে যেতেও ইচ্ছে করছিল না কিন্তু ওর ঠান্ডার ধাত আছে। বেশিক্ষণ বৃষ্টিতে ভেজা যাবে না। তাই বাড়ির কাছাকাছি এসে ইরা দৌড়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো, ঠিক যেমন নয় দশ বছরের বালিকা এক দৌড়ে ঘরে ফেরে, তেমনি। তানভীর বাড়িতে পৌছালো যখন তখন বৃষ্টি শুরু হয়নি। টিপটিপ করে দুয়েক ফোঁটা পরছে। ফ্রেশ হয়ে মজিবর চাচার সাথে বসার কথা ছিল। তখনো মজিবর চাচা কারখানার শেডঘর থেকে বাড়িতে এসে পৌছাতে পারেননি। নভেম্বর মাসের বৃষ্টি হওয়াতে কেউই প্রস্তুতি নিয়ে বের হয়নি। এখন ঝুম বৃষ্টিতে কখন আসতে পারবে কে জানে! তানভীর ফ্রেশ হয়ে সামনের ঝুল বারান্দায় এসে দাঁড়ালো। আয়েশা ফুপু মরিয়মকে দিয়ে কফি পাঠিয়ে দিয়েছেন। এ বাড়ির বারান্দাটা অনেক পছন্দ তানভীরের। দোলনাটা তানভীরই লাগিয়েছে। যদিও এখানে আসা হয় না তেমন একটা।এখানে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখতে খুব ভাল লাগছে। মনে হচ্ছে দূরে কোথাও থেকে বৃষ্টির বাজনা বেজে যাচ্ছে। সামনে কলাপাতা গুলো ভিজে একদম চকচকে হয়ে আছে। মাত্র স্নান সেরে উঠলো যেন কলা বৌ। ব্যস্ততায় এমন বৃষ্টি ঢাকায় দেখা হয় না। বৃষ্টির জলের সাথে যেন সব কিছু ধুঁয়ে শুচি ও পবিত্র হয়ে যাচ্ছে। তানভীর কফির মগ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ দেখলো কিশোরী মেয়ের মতো একজন এক ঝাঁক কাঠগোলাপ হাতে জড়িয়ে, কাঁধে ব্যাগ নিয়ে কাকভেজা হয়ে দৌড়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকলো। অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য। এমনটা দেখা যায় না! কে মেয়েটা!।